Posts

তোমার প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস আর চোখের জল আমার জন্য অলিখিত অভিশাপ

অভিশাপ কি কেবল মুখেই উচ্চারিত হয়? না, তোমার প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস আর চোখের জল আমার জন্য একেকটি অলিখিত অভিশাপ। তুমি যতবার ব্যথিত হবে, ততবার আমি সেই দহনে দগ্ধ হবো। আজ নিজেকে বড় অপরাধী মনে হয়; তোমার জন্য কিছুই করতে পারিনি। তোমার সেই অপূর্ণতার আক্ষেপগুলোই আজ আমার ভাগ্যে অভিশাপ হয়ে ফিরে আসছে—হয়তো কোনো একদিন এর চূড়ান্ত পরিণতিও আমায় বরণ করতে হবে। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন আমার উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করেন; আর সেই শাস্তি দেখে অন্তত তোমার ওই তৃষ্ণার্ত নয়ন দুটি শান্ত হোক।

প্রিয়তমা....................

প্রিয়তমা, ​সময়ের স্রোতে সব বদলে যায়, বদলে যায় চারপাশের মানুষগুলোও। কিন্তু কিছু অনুভূতি থাকে যা কোনো সমীকরণে মেলালে কমে না। আজ খুব করে বলতে ইচ্ছে করছে—এই পৃথিবীতে আমি থাকি আর না থাকি, তাতে আকাশের নীল ফিকে হবে না কিংবা বাতাসের গতি থমকে যাবে না। তুমি চলবে তোমার আপন নিয়মে। শুধু আমার একান্ত চাওয়া, আমিতো তোমার জন্য কিছুই করতে পারিনি, তুমি নিজের খুব খেয়াল রেখো। কোনো বিষাদ যেন কখনো তোমায় ছুঁতে না পারে, কোনো মেঘ যেন তোমার হাসিকে আড়াল করতে না পারে। ​বিশ্বাস করো, আজও তুমি হাসলে আমার পৃথিবীটা পূর্ণতা পায়। তোমার ওই এক চিলতে হাসির মাঝে আমি আমার বেঁচে থাকার সবটুকু সার্থকতা খুঁজে পাই। তুমি সেই মানুষ, যে আমার বড্ড শখের, খুব আদরের। তোমাকে আমি আগলে রেখেছি আমার হৃদয়ের সবটুকু যত্ন দিয়ে। ​হয়তো মুখ ফুটে আর বলা হবে না, কিন্তু আমার প্রার্থনার প্রতিটি ভাঁজে সৃষ্টিকর্তার কাছে তোমার সুখটুকুই চেয়ে নিই। তুমি ভালো থেকো, নিজের প্রতি যত্নশীল থেকো। কারণ তোমার ভালো থাকাই আমার অস্তিত্বের প্রশান্তি। আমি আজও তোমার খোঁজ রাখি। হয়তো যোগাযোগ করি না। আসলে তোমার খোঁজ রাখাটা আমার মনের টান, এক নিঃস্বার্থ ও অকৃত্রিম ভালোবাসার বহিঃ...

আমি তোমাকে ভালোবাসি....

আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। তুমি তো আছো আমার হৃদয় জুড়ে। তুমি ছাড়া কিছু নেই। তোমাকে ঠিক ততটাই ভালোবাসি, যতটা ভালোবাসলে আমার ভালোবাসা পরিপূর্ণ। তবে যেই সম্পর্কে ঝগড়া বেশি হয়, সেই সম্পর্কে ভালোবাসা অনেক বেশি। ভালোবাসি তোমাকে। আজ কয়দিন কষ্ট পাচ্ছি অনেক, তবে আজ কষ্টের মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। একই স্বপ্ন তিনবার দেখেছি, তারপর আর রাতে ঘুমাতে পারিনি। তুমি অনেক ছেলেমানুষ, আমার আদুরি, তাইতো উল্টা পাল্টা কিছু দেখলে আমি থাকতে পারি না। আবারও বলছি, সব সময় মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইবে, যেন তুমি কোন ভুল না করো। জীবনে যেন আর কোন ভুল না করো। তোমার কন্ঠ শোনার জন্য বেকুল হয়ে ছিলাম। সেই মিষ্টি কন্ঠ। যে কন্ঠ শুনলে আমার সকল কষ্ট দুর হয়, যে কন্ঠ শুনলে আবার আমি শক্তি পাই। আমি অপরাধী। তোমার জীবনকে সুন্দর করতে পারিনি, হয়তো এ অপরাধের জন্য আমি নিজেকে কোন দিনও ক্ষমা করতে পারবো না। তবে আমি চরিত্রহীন নই। আমার মাঝে তুমি ছাড়া কিছুই নেই। শুধু তুমি, শুধুই ‍তুমি। রাগ করি, গালমন্দ করি কিন্তু আমার পুরো হৃদয় জুড়ে তুমি শুধু তুমি। কথা বলি না বলি, আমার হৃদয় জুড়ে তুমি, শুধু তুমি। কোন সুযোগ নেই তুমি ছাড়া হৃদয়ে অন্য কিছুর। তোমায় নিয়ে ...

ভালোবাসা মানেই তো একটু বেশি অধিকার..

তুমি হয়তো ভাবো, আমি তোমাকে খোটা দিই। অথচ আমি শুধু চেয়েছি, তুমি বুঝো—তোমার জন্য আমি কতটা করেছি, কতটা দিতে পেরেছি নিজের থেকেও। কোনো প্রত্যাশা ছিল না, শুধু মনে হতো, তুমি যেন বোঝো, তুমি আমার কতখানি প্রয়োজন। তোমার ছোট ভুলগুলো ধরিয়ে দিই, কারণ চাই না তুমি সেই ভুলের মাঝে হারিয়ে যাও। শাসন বলো বা যত্ন—আমার মন বলে, তুমি আমার, তাই তোমাকে আগলে রাখা আমার দায়িত্ব। তুমি বুঝো না, আমার প্রতিটা কথার আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়—তোমাকে হারাবার, তোমার বদলে যাওয়ার। তুমি যখন অন্য কারো সাথে কথা বলো, আমার ভিতরে একটা অস্থিরতা কাজ করে—এটা রাগ নয়, এটা আমার ভালোবাসার অধিকার। আমি কখনো তোমাকে খারাপ ভাবিনি, ভাবতেই পারি না। বরং তোমার প্রতিটা হাসি, প্রতিটা অভিমান, আমার হৃদয়ের গভীরে গেঁথে আছে। ভালোবাসা কি সবসময় মিষ্টি কথা, নরম ছোঁয়া? না… ভালোবাসা মানে কখনো কখনো একটু কড়া স্বরেও বলা—"তুমি আমার", একটু অভিমানে চুপ থেকে বোঝানো—"তোমার ছাড়া আমি শূন্য।" আমি শুধু চাই, তুমি একবার বুঝো—তোমাকে নিয়েই আমার পৃথিবী, আর যা কিছু করি, তা কেবল তোমার ভালোবাসার ছায়ায় নিজেকে হারিয়ে ফেলার জন্যই।

আমার এলোমেলো জীবনের সবচেয়ে সুন্দর গোছানো মানুষ...… তুমি

আমার জীবনটা ঠিক যেন একটা এলোমেলো গল্পের বই— যার পাতাগুলো হয়তো লেখা হয়নি কোনো নিয়ম মেনে, যেখানে সকাল-সন্ধ্যার ঠিক ঠিকানা নেই, ভবিষ্যতের ছকে সবকিছুই কেমন ঝাপসা। কখনো মন চায় উড়ে যেতে আকাশের মত, আবার কখনো আটকে যাই মাটির খুব কাছাকাছি। এ জীবনে নেই নির্দিষ্ট পথ, নেই স্থিরতা— শুধু প্রতিদিনের অজানা দিকেই ছুটে চলা। তবুও, এই অগোছালো জীবনের ঠিক মাঝখানে তুমি… আমার প্রিয়তমা, একেবারে গোছানো এক পৃথিবী। তুমি প্রতিদিন আমার অস্থিরতার মাঝে স্থিরতা এনে দাও, তুমি আমার এলোমেলো সকালগুলোকে করে দাও শান্ত দুপুর। তুমি আমার অপরিপাটি জীবনের একমাত্র সাজানো কোণ, যেখানে সব কিছু ঠিকঠাক, সুন্দর, মায়ায় মোড়া। তোমার মুখের এক টুকরো হাসি আমার এলোমেলো জীবনটাকে এক নিমিষে অর্থ দিয়ে দেয়। তাই আমি আজও ভাঙা স্বপ্ন, অব্যবস্থাপূর্ণ বাস্তব আর দুঃখের ভেতরেও বেঁচে আছি— শুধু এই বিশ্বাসে, যে আমার এই এলোমেলো জীবনের সবচেয়ে সুন্দর গোছানো মানুষটা… তুমি।

তোমার মায়ের স্বপ্নে গিয়ে একটু বলো, "বাবা একা হয়ে গেছে মা, বাবাকে একটু জড়িয়ে নিও”

প্রিয় গোলু বাবা সোনা, তুমি তো এখন ঐ আকাশের তারা হয়ে গেছো, তুমি আমার নিঃশ্বাস, আমার অস্তিত্বের ছায়া হয়ে থেকো ওখানে। আজ তোমার কাছে একটা নালিশ আছে আমার— তোমার মায়ের নামে- “আজ আমার কথা শুনতে চায় না” আমি অনেক কিছু বলি, বুঝাতে চাই— কিন্তু সে ভাবে, আমি বদলে গেছি। তাকে অনেক কিছু বুঝাতে পারি না, জানি তোমার মা অনেক অবুঝ, অনেক আদুরী। তুমি তো একটি নিষ্পাপ আত্মা, নিশ্চয় মনের ভিতরের সব তুমি বোঝ গোলু বাবা। আমি তো শুধু চাই, তোমার মা আমাকে আবার বিশ্বাস করুক। সে যেন শুধু একবার আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বোঝে, আমি তাকে কতটা ভালোবাসি, এখনও… আগের মতোই। প্রিয় গোলু সোনা, তুমি ওখানে থাকো শান্তিতে। আর, তোমার মা'র স্বপ্নে গিয়ে একটু বলো, "বাবা একা হয়ে গেছে মা, ওকে একটু জড়িয়ে নিও।"

মুখোশের আড়ালে আমি

মুখোশের আড়ালে আমি—হাসিমুখের এই আমি অনেকের চোখে সুখী, আত্মবিশ্বাসী, সফল। কিন্তু বাস্তবটা কি ঠিক তেমন? জীবনের দিকে তাকালেই মনে হয়, আমি যেন কেবল হেরে যাওয়া পৃষ্ঠাগুলোর একজন লেখক। প্রতিটি অধ্যায়ে শুধু সংগ্রাম, শুধু অপ্রাপ্তির গল্প। যেখানে স্বপ্নগুলো ছিল রঙিন, কিন্তু বাস্তবতা ছুঁয়েছে ধূসর ছায়া। কখনো ভালো থাকার ভান করেছি, কখনো চোখের জল লুকিয়ে হাসি দিয়েছি মানুষকে স্বস্তি দিতে। অথচ ভেতরে ভেঙে যাওয়া আত্মার আর্তনাদ কেউ শুনেনি। মানুষ বলে, “সব ভালো হয়ে যাবে।” অথচ কেউ বোঝে না, আমার প্রতিটি নতুন সকাল মানে আবার নতুন করে নিজেকে গুছিয়ে তোলার লড়াই। অথচ ভিতরে আমি শুধুই ক্লান্ত, বিধ্বস্ত, নিঃসঙ্গ। আমি জানি, আমি একা নই এই মুখোশের দুনিয়ায়। অনেকেই আড়ালের এই কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছে, শব্দহীন এক ভাষায়। আমি হেরে যাই, আবার জিততেও চাই। কিন্তু কেউ যদি শুধু একবার পাশে এসে বলে, “তুমি একা নও”—তাহলেই হয়তো পরের পাতাটা জয়ের গল্প হতে পারে। তাই এখনো লিখে চলি, কারণ জানি, মুখোশের আড়ালেও সত্যিকারের ‘আমি’ এখনো হারিয়ে যায়নি। হয়তো সেই মানুষটি ঠিকই বলবে- “তুমি একা নও” আমি তো আছি।